Cart
অর্গানিক খাদ্য

অজানা তথ্যের ভাণ্ডার সুন্দরবন নাকি মধুর বন

সুন্দরবন

বাংলাদেশের জাতীয় পশুর নাম কী? উত্তর – রয়েল বেঙ্গল টাইগার। কোথায় দেখা যায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে? উত্তর – সুন্দরবনে। কেন সুন্দরবন ? সে বনে সুন্দরী গাছের উপস্থিতির কারণে। সেখানে আর কী পাওয়া যায়? মধু পাওয়া যায়। আসলে  সুন্দরবনে কী পাওয়া যায় না-এটা একটা প্রশ্ন হতে পারে! আসুন জেনে নেওয়া যাক অজানা তথ্যের ভাণ্ডার প্রকৃতিকন্যা সুন্দরবন সম্পর্কে।

সুন্দরবন হচ্ছে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত পৃথিবীর একমাত্র বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন।  এ বন বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত। সুন্দরবনের মোট আয়তন ১০০০০ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে আমাদের দেশের মধ্যের অংশের আয়তন প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার।  বর্তমানে মোট ভূমির আয়তন ৪,১৪৩ বর্গ কিলোমিটার (বালুতট ৪২ বর্গ কি.মি. -এর আয়তনসহ) এবং নদী, খাঁড়ি ও খালসহ বাকি জলধারার আয়তন ১,৮৭৪ বর্গ কি.মি. ।

“সুন্দরবন”-এর আক্ষরিক অর্থ “সুন্দর জঙ্গল” বা “সুন্দর বনভূমি”। খুব সম্ভবত ‘সুন্দরবন’ নামটি সুন্দরী বৃক্ষের আধিক্যের কারণে (সুন্দরী-বন) অথবা সাগরের বন (সমুদ্র-বন) এখান থেকে এসেছে। সাধারণভাবে গৃহীত ব্যাখ্যাটি হলো এখানকার প্রধান উদ্ভিদ সুন্দরী বৃক্ষের (Heritiera fomes) নাম থেকেই এ বনভূমির নামকরণ।

জীববৈচিত্রের আধার এই সুন্দরবন। এখানে পাওয়া যাওয়া গাছের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সুন্দরী, গেওয়া, গরান এবং কেওড়া গাছ। উল্লেখযোগ্য বন্যপ্রাণীর মধ্যে শুরু হল রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, বানর, শুকর, কুমির, ডলফিন, গুইসাপ, অজগর, হরিয়াল, বালিহাঁস, গাংচিল, বক, মদনটাক, মরালিহাঁস, চখা, ঈগল, চিল মাছরাঙা ইত্যাদি। এ বন দেশের মৎস্য সম্পদেরও এক বিরাট আধার। ইলিশ, লইট্টা, ছুরি, পোয়া,  রূপচাঁদা, ভেটকি, পারসে, গলদা, বাগদা, চিতরা ইত্যাদি মাছ পাওয়া যায়। এছাড়া এ বনের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত প্রধান প্রধান নদীগুলো হলো- পশুর, শিবসা, বলেশ্বর, রায়মংগল ইত্যাদি। তাছাড়া শত শত খাল এ বনের মধ্যে জালের মতো ছড়িয়ে আছে।

এখানে বলতে হয় যে, বিশ্ব ঐতিহ্যে সুন্দরবন জায়গা করে নিয়েছে। ১৯৯২ সালের ২১শে মে সুন্দরবন রামসার স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। সুন্দরবন ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

সুন্দরবনের জনসংখ্যার বেশির ভাগই স্থায়ী নয়। এ বন দেশের বনজ সম্পদের সবচেয়ে বড় উৎস। কাঠের উপর নির্ভরশীল সকল শিল্পের কাঁচামাল জোগান দেয় এই বন। এছাড়া এ বন থেকে নিয়মিত ব্যাপকভাবে আহরণ করা হয় ঘর ছাওয়ার পাতা, মধু, মৌচাকের মোম, মাছ, কাঁকড়া এবং শামুক-ঝিনুক।

দেশে মধু উৎপাদনের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হচ্ছে সুন্দরবন। ১৮৬০ সাল থেকে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করা হয়। বনসংলগ্ন একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী বংশপরম্পরায় মধু সংগ্রহ করে। এদেরকেই মৌয়াল বলা হয়। দেশে উৎপাদিত  মোট মধুর ২০% সুন্দরবনে পাওয়া যায়। সুন্দরবনের সবচেয়ে ভালো মানের মধু খোলসী ফুলের ‘পদ্ম মধু’। মানের দিক থেকে এরপরেই গরান ও গর্জন ফুলের ‘বালিহার মধু’। মৌসুমের একেবারে শেষে আসা কেওড়া ও গেওয়া ফুলের মধু অপেক্ষাকৃত কম সুস্বাদু।

মধু সংগ্রহের জন্য প্রতিবছরের ১ এপ্রিল থেকে তিন মাসের (এপ্রিল, মে ও জুন) জন্য বন বিভাগ মৌয়ালদের অনুমতিপত্র (পাস) দেয়। আর সময় নষ্ট না করে শুরুর দিন থেকেই মধু সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে মৌয়ালরা।

মধু সংগ্রহ করতে যাওয়ার আগে বিশেষ প্রার্থনা করে নেন মৌয়ালরা ৷  কারণ সেখানে বাঘের ভয়ের পাশাপাশি আছে ডাকাতের ভয় ৷ কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যান৷ মধু সংগ্রহের কিছু নিয়মনীতি ঠিক করে দিয়েছে বন বিভাগ, যেমন- মৌচাক থেকে মৌমাছি সরানোর সময় আগুনের ধোঁয়া ব্যবহার করতে হবে – এরকম নিয়ম আছে৷

মৌয়ালরা এখন সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি হাইজেনিক পদ্ধতিতেও সুন্দরবন থেকে মধু ও মোম সংগ্রহ করছে। যার ফলে মধু ও মোম সংগ্রহের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে । পরিচ্ছন্নভাবে মধু সংগ্রহ এবং এর গুণগত মানও বজায় রাখার জন্য বেসরকারি সংগঠনগুলো মৌয়ালদের যন্ত্রপাতি বিতরণ করছে।

মধু নিয়ে এত কথা হচ্ছে, আপনি জানেন মধু কী ?  মধু হচ্ছে একটি তরল আঠালো মিষ্টি জাতীয় পদার্থ, যা মৌমাছিরা ফুল থেকে পুষ্পরস হিসেবে সংগ্রহ করে মৌচাকে জমা রাখে । পরবর্তীতে জমাকৃত পুষ্পরস প্রাকৃতিক নিয়মেই মৌমাছি বিশেষ প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ মধুতে রূপান্তর এবং কোষবদ্ধ অবস্থায় মৌচাকে সংরক্ষণ করে । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে মধু হচ্ছে এমন একটি মিষ্টি জাতীয় পদার্থ যা মৌমাছিরা ফুলের পুষ্পরস অথবা জীবন্ত গাছপালার নির্গত রস থেকে সংগ্রহ করে মধুতে রূপান্তর করে এবং সুনির্দিষ্ট কিছু উপাদান যোগ করে মৌচাকে সংরক্ষণ করে।

কেন মধু এত গুরুত্বপূর্ণ?  একারণ হিসেবে বলা যায় – মধু শক্তি প্রদায়ী, হজমে সহায়তা, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে করে। মধুতে রয়েছে ভিটামিন যা  অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে। মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে।

মধুর এত গুণ থাকা পরেও বাজারের মধু খাঁটি কিনা আপনি জানেন কি? অনেকেই বলবেন, না। খাবারের তালিকাভুক্ত ৪৩ ধরনের পণ্যে শতকরা ৪০ ভাগ ভেজালের সন্ধান পেয়েছে জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট (আইপিএইচ) এবং এর মধ্যে ১৩টি পণ্যে ভেজালের হার প্রায় শতভাগ।

প্রশ্ন করতে পারেন, খাঁটি মধু তবে কি পাওয়া যাবে না ? উত্তরে বলব, হ্যাঁ পাওয়া যাবে। বর্তমানে সুন্দরবন থেকে হাইজেনিক পদ্ধতিতে মধু আহরণ করা হয়, যা খাঁটি এবং সেই সাথে https://khaasfood.com থেকে খাঁটি মধু পাবেন। বাড়ীতে বসে, অনলাইনে !