ঈদের আগে ঈদের বাজার - Khaasfood Blog
Cart
খাদ্যের গুনাগুণ

ঈদের আগে ঈদের বাজার

আনিস রহমান এবং শায়লা রহমান দুজনেই কর্মজীবী। প্রতিদিনের কাজের চাপে ব্যস্ত এ দম্পতির বাজারের খবর ভুলে যাওয়া নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে বরকত ও রহমতের মাস পবিত্র রমজান শেষ হয়ে গেল প্রায়। আর কিছুদিন পরেই আসছে খুশির ঈদ। নানান আয়োজনে ভরপুর এ দিনটিতে সকলে মেতে ওঠেন পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে। আর এ আয়োজনের মুখ্য বিষয়ে থাকে নানান মুখরোচক খাবার-দাবার। তাই ঈদের আগেই শেষ করে নেয়া চাই ঈদের বাজার। 

এ দম্পত্তির মতো আরো অনেকেই আছেন। আজকের আয়োজন এমন সকলের জন্য। ঈদের দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চলে হরেক রকম খাবার তৈরি ও খাওয়ার প্রতিযোগিতা। যার প্রস্তুতি হয়ত চলবে ঈদের দিনের আগে থেকেই। সুতরাং ঈদের সম্পূর্ণ বাজার শেষ করা চাই বেশ কিছুদিন পূর্বেই।

বাজারের আগে দরকার পূর্ব পরিকল্পনা। কী আছে বা কী লাগবে তার বিস্তারিত তালিকা। যেহেতু এবার লকডাউনের জন্য সমগ্র দেশের চিত্র ভিন্ন, তাই অনেক জায়গাতেই হয়ত সরবরাহ সংকট দেখা দেবে। আবার বাসা থেকে বের হওয়াও নিরাপদ নয়। তাই আগে থেকে নির্ধারণ করে নিন বিশ্বস্ত ফুড শপ। যারা প্রয়োজনীয় সকল খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করতে পারবে এবং যথাযথ সময়ে বাসায় পৌঁছে দেবে আপনার প্রয়োজনীয় দ্রব্য। এ ব্যাপারে ভরসা করতে পারেন খাস ফুডের ওপর। আমাদের ওয়েবসাইটে (https://khaasfood.com) পেয়ে যাবেন প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের তালিকা এবং সহজে অর্ডার করার সুব্যবস্থা। 

ঈদের বাজারের তালিকা থেকে শুরু করে ক্রয় করার বিষয়ে কিছু কথা, যেমনঃ

* অনেকেই ঈদে বিভিন্ন ভিন্নধর্মী খাবার তৈরি করেন। যার প্রয়োজনীয় উপকরণ অতিরিক্ত হলে হয়ত ঘরে থেকে যাবে বহুদিন। তাই জিনিসপত্র কেনার সময় অবশ্যই উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নিন।

* বেশিরভাগ মিষ্টান্ন তৈরির জন্য চাই দুধ। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে খাঁটি দুধ কিনে সঠিকভাবে সংরক্ষন করে রাখতে পারেন। 

* কাঁচা মাছ, মাংস, ফলমূল, শাক সবজি বাসায় এনে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। মাছ, মাংস, শাকসবজি খাওয়ার আগে পর্যাপ্ত পরিমাণে রান্না করে খাওয়া ভালো। যে সকল ফলমূল ও শাকসবজি কাঁচা খাওয়া হয়, সেগুলো প্রয়োজনে সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে জীবানুমুক্ত করতে পারেন, এরপর খাওয়া।

* যে জিনিসই কিনবেন তার ফুড লেবেল দেখে কিনুন। পণ্য বানানোর উপকরণ ও পরিপোষক পদার্থ অর্থাৎ নিউট্রিয়েন্টস দেখে নিন।

* সস, সালাদ ড্রেসিং কেনার সময় এসব পণ্যের গায়ে সোডিয়াম ও চিনির পরিমাণ দেখে নিন। কারণ স্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্ব সবার আগে।

* মেয়োনেজের বদলে সালসা বা হট সস ব্যবহার করতে পারেন। বাজারে আজকাল লাইট মেয়োনেজ পাওয়া যায়। সেটিও কিনতে পারেন অথবা নিজেও বাসায় তৈরি করে নিতে পারেন।

* সাদা চালের পরিবর্তে বাদামী চাল, সাদা আটার পরিবর্তে বাদামী আটা এবং সাদা চিনির পরিবর্তে বাদামী চিনি ব্যবহার করতে পারেন। এতে খাবার হবে পুষ্টিগুনে ভরপুর এবং স্বাদেও আসবে ভিন্নতা।

* নুডুলস, পাস্তা ও চাল জাতীয় কিছু কিনতে হলে হোল গ্রেইন দেখে কেনা ভালো। হোল গ্রেইনে থাকে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন বি, আয়রন, জিংক, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস। যা হার্টের রোগ, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন থেকে নিরাপদে রাখতে সাহায্য করে। 

প্রয়োজনীয় তালিকা তৈরি করে এসব ছোট ছোট কিছু তথ্য মাথায় রেখে আগেভাগে সেরে নিন ঈদের বাজার। সবকিছু প্রস্তুত থাকলে ঈদের দিন কোনো রকম চিন্তা ছাড়াই মুখরোচক এবং স্বাস্থ্যকর খাবার উপহার দিতে পারবেন পরিবার পরিজনকে।

সুস্থ ও নিরাপদে কাটুক সকলের জীবন। শুভ হোক সকলের ঈদ।

ঈদ মোবারাক!!